কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শোক র্যালি ও মানববন্ধন করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি। একই ঘটনায় পরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে শোক র্যালি বের হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন।
মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে আটক করেছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। শিক্ষকরা মনে করেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে এসব ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামিমা নাছরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
এদিকে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায় স্বীকার করে প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জন্য স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পৃথক কর্মসূচিতে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো উঠে আসে।