দেশের কোনো মানুষ যাতে খাদ্যসংকটে না ভোগেন এবং অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই ওএমএস (খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি) কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার চত্বরে ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে অসহায়, নিম্নআয়ের ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো যাতে সহজে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের কোনো মানুষ যেন খাবারের অভাবে কষ্ট না পান।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসহায় ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জের অভাবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন করে পাঁচটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বিক্রয়কেন্দ্র চালুর ফলে মানিকগঞ্জের আরও বেশি মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক কম দামে চাল ও আটা কেনার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের চাপের মধ্যে যেসব পরিবার সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এ কার্যক্রম সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওএমএস কার্যক্রম মূলত সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল, আটা ও অন্যান্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্য বিক্রির একটি উদ্যোগ। নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র ও ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়। এর ফলে বাজারের তুলনায় কম দামে খাদ্যপণ্য কেনার সুযোগ পান সুবিধাভোগীরা। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় কমানো এবং খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসন্ন রমজান মাসে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বর্তমানে কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
রমজান মাসে সাধারণত চাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এ সময়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান পরিকল্পনাগুলো এ ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জে নতুন পাঁচটি ওএমএস পয়েন্ট চালুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি খাদ্য সহায়তার পরিধি আরও বাড়ল। তবে এ কার্যক্রমের সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ, সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে খাদ্যপণ্য পৌঁছানোর ওপর।