• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

সারের কৃত্রিম সংকট করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

newsline24 / ৪২ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
সারের কৃত্রিম সংকট করলে কঠোর ব্যবস্থা কৃষিমন্ত্রী
সারের কৃত্রিম সংকট করলে কঠোর ব্যবস্থা কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তাঁর দাবি, প্রতিবছর দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। এরপরও কেউ পরিকল্পিতভাবে সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং তাঁদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কৃষকের উৎপাদন বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার আমদানি করা হচ্ছে। ফলে দেশে সার না থাকার কারণে সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে কৃষকদের জানাচ্ছেন। অথচ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হলে তাঁরাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। কেউ কারসাজি করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা পর্যায়ের ডিলারদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ডিলার তাঁর বরাদ্দের সার নির্ধারিত সময়ে না তুললে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে তা কৃষকদের কাছে সঠিক দামে ও সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিলারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কৃষকের জন্য সারের সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। চাষাবাদের মৌসুমে সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় কৃষিপণ্যে দেশের আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যেন কৃষির প্রয়োজনীয় পণ্য বিদেশ থেকে আনতে না হয়, সে লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মাটির গুণগত মান বিভিন্ন কারণে আগের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো দেশের অন্যতম উর্বর মাটি হিসেবে বিবেচিত। কৃষির জন্য জেলার এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফরিদপুরের কৃষিকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, সার ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে একদিকে সারের সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা এসেছে, অন্যদিকে কৃষিপণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের এই অবস্থানের ফলে সার বিতরণে অনিয়ম, মজুতদারি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে মাঠপর্যায়ে তা নজরদারির আওতায় আসবে—এমন বার্তাই দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category