দৌলতপুর মরিচাতে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে শত কোটি টাকার বাঁধ,সিন্ডিকেট করে তুলছে বালি

newsline24newsline24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:31 AM, 21 March 2024

ঢাকা নিউজলাইন ডেস্কঃ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ৪ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে দলবদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে ও তাদের মহোৎসব চলছে।গত ৩ সপ্তাহ যাবৎ রাত ১০:৩০ ঘটািকা থেকে ভোর রাত,এমনকি সকাল ৭:০০ টা পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে ও প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসন নিচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা!অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকিতে পড়েছে পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে করা শত কোটি টাকার রক্ষা বাঁধ।এসব বালু শত শত ট্রলি/ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও গ্রামীণ জনপদ।নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে শক্তিশালী একটি চক্র।সেই চক্র সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম বৈরাগীরচর মোল্লা পাড়ার মৃত:ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সুদ কারবারি টগর মোল্লা(৪০),হাসেম মোল্লার ছেলে হেদায়েত মোল্লা(৩৫),বৈরাগীরচর সরদার পাড়ার মৃত: বাবর আলী সরদারের ছেলে মরিচা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউ’পি সদস্য নান্টু রাজ/নান্টু মেম্বার ওরফে জুয়াড়ী নান্টু ডাক্তার,মৃত আজিম মোল্লার ছেলে নজু মোল্লা(৪৮),বৈরাগীরচর মধ্য রিফুজি পাড়ার মৃত মজিবর কেরানীর ছেলে স্বপন সরদার(৪৮),বৈরাগীরচর প্রামানিক পাড়ার আলম বিডিআরের ছেলে লিখন প্রামানিক(২৯),বৈরাগীরচর কারিতলার মৃত:জাকাত সরদারের ছেলে রাজ্জাক সর্দার,মো:ইয়াসিন সরদারের ছেলে ভাদু সরদার।এদের কারণে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ।স্থানীয়রা জানান,পদ্মা নদীর কোল থেকে প্রতিদিন দুই ঘাট হতে ৩০০-৩৫০ টলি/ট্রাক্টর বালু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে শত কোটি টাকার রক্ষা বাঁধ,ফসলি জমি ও এলাকায় বসবাস যোগ্য গ্রাম।এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় ৪ নং মরিচা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউ’পি সদস্য নান্টু রাজ/নান্টু মেম্বার ওরফে জুয়াড়ী নান্টু ডাক্তার এই বালি উত্তোলনের মূলহোতা,ইতিপূর্বে এই ইউ’পি সদস্যের কাছে এক সাংবাদিক তাঁর অন্যায়,দুর্নীতি ও কুকর্মের বিষয়ে তাঁর ফোনকলে কলদিয়ে তথ্য চেয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি সেই সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রান নাশের হুমকি দিয়েছিলেন,এ বিষয়ে ঢাকা শাহ আলী থানাতে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন সেই সাংবাদিক,যাহার জিডি নং-৪১৬,তারিখ ১০/০৬/২০২৩। তবে এই অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষায় এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙন দেখা যায় প্রচুর পরিমানে।বালু পরিবহনকারী টলি/ট্রাক্টর চালক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিককে জানান,তারা প্রতি ট্রাক্টর বালু ২৫০-৩০০ টাকা দরে কিনছেন।এরপর এগুলো তারা বিক্রি করেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে।প্রত্যেক ট্রাক্টর চালক প্রতিদিন ১০-১২ বার বালু নিয়ে যান পদ্মার পাড় থেকে। প্রতিদিন রাত ১০:৩০ টা থেকে ভোর এমনকি সকাল ৭:০০ টা পর্যন্ত প্রায় ৭০টি টলি/ট্রাক্টর বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হয়।এসব বালু কুষ্টিয়া দৌলতপুর,মরিচা সহ আশেপাশের এলাকা এবং বৈরাগীরচর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।দৌলতপুর উপজেলার ৪ নং মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ এর কাছে অবৈধ বালি উত্তোলন বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিককে বলেন,আমি ৪ নং মরিচা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি,আমি মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে অবৈধ বালি উত্তোলন রোধ করতে অপকারক,এ বালি উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও হাইকোর্টের নিষিদ্ধ আছে,তবে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী আমি আমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মহোদয় ও ডিসি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি।’প্রতিবাদ করেও নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না।বালু উত্তোলন করায় বৈরাগীরচর সহ অত্র পদ্মা নদীর পাড় এলাকায় বর্ষাকালে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়।স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত।’নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের প্রধান মরিচা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউ’পি সদস্য নান্টু রাজ/নান্টু মেম্বার ওরফে জুয়াড়ী নান্টু ডাক্তার এর মুঠোফোনে কল করে উক্ত বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোনকল কেটে দেন,পুনরায় কল করা হলে তিনি ফোনকল কেটে কেটে দেন।নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত।নদীতে বিলিন হয়েগেছে পদ্মার পাড়ে বসবাসকারী স্থানীয়দের অনেক জমি।এসব জমি থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে বালি খেকো সিন্ডিকেট।এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন কলে অবহিত করা চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকের ফোনকল রিসিভ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন :